বাংলাদেশ পুলিশের সার্জেন্ট পদ দেশের অন্যতম সম্মানজনক সরকারি চাকরি। প্রতিবছর হাজারো তরুণ-তরুণী এই পদে আবেদন করেন। ২০২৬ সালে বাংলাদেশ পুলিশ সার্জেন্ট পদে নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে।
এই নিয়োগের মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থীদের কয়েকটি ধাপে বাছাই করে চূড়ান্তভাবে প্রশিক্ষণের জন্য মনোনয়ন দেওয়া হবে। যারা বাংলাদেশ পুলিশে ক্যারিয়ার গড়তে চান, তাদের জন্য এই নিয়োগ প্রক্রিয়া একটি বড় সুযোগ।
এই আর্টিকেলে আপনি জানতে পারবেন—
-
সার্জেন্ট পদে আবেদন করার নিয়ম
-
নিয়োগের ধাপসমূহ
-
পরীক্ষার নম্বর বণ্টন
-
আবেদন ফি
-
গুরুত্বপূর্ণ তারিখ
-
চূড়ান্ত নির্বাচনের প্রক্রিয়া
চলুন বিস্তারিতভাবে জেনে নেওয়া যাক।
বাংলাদেশ পুলিশ সার্জেন্ট নিয়োগ ২০২৬
বাংলাদেশ পুলিশ সার্জেন্ট পদে নিয়োগের জন্য অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। আবেদন প্রক্রিয়া পরিচালনা করা হবে টেলিটক ওয়েবসাইটের মাধ্যমে।
আবেদন করার অফিসিয়াল ওয়েবসাইট:
http://police.teletalk.com.bd
এই নিয়োগ প্রক্রিয়া মোট ৫টি ধাপে সম্পন্ন হবে। প্রতিটি ধাপ সফলভাবে উত্তীর্ণ হলে প্রার্থী পরবর্তী ধাপে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন।
সার্জেন্ট নিয়োগের বাছাই প্রক্রিয়ার ধাপসমূহ
বাংলাদেশ পুলিশ সার্জেন্ট পদে নিয়োগের জন্য প্রার্থীদের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ অতিক্রম করতে হবে। নিচে ধাপে ধাপে পুরো প্রক্রিয়াটি ব্যাখ্যা করা হলো।
১ম ধাপ: অনলাইনে আবেদন ও শারীরিক সক্ষমতা যাচাই
প্রথম ধাপে প্রার্থীদের অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। এই আবেদন মূলত শারীরিক সক্ষমতা যাচাই পরীক্ষার জন্য করা হয়।
আবেদন করার সময় প্রার্থীকে নির্ধারিত ফি প্রদান করতে হবে।
আবেদন ফি
-
৪৮ টাকা
আবেদন করার ওয়েবসাইট
অনলাইনে আবেদন করার সময় প্রার্থীদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করতে হবে, যেমন—
-
ব্যক্তিগত তথ্য
-
শিক্ষাগত যোগ্যতা
-
উচ্চতা
-
যোগাযোগের তথ্য
-
ছবি ও স্বাক্ষর
আবেদন সফলভাবে সম্পন্ন হলে প্রার্থী একটি User ID এবং Password পাবেন, যা পরবর্তী ধাপের জন্য প্রয়োজন হবে।
২য় ধাপ: প্রিলিমিনারি স্ক্রিনিং
প্রথম ধাপে আবেদন সম্পন্ন হওয়ার পর দ্বিতীয় ধাপে শুরু হবে প্রিলিমিনারি স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া।
এই ধাপে প্রার্থীদের কয়েকটি বিষয়ের ভিত্তিতে যাচাই করা হবে।
স্ক্রিনিংয়ের প্রধান মানদণ্ড
-
এসএসসি বা সমমান পরীক্ষার ফলাফল
-
এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষার ফলাফল
-
ডিগ্রি বা স্নাতক পরীক্ষার ফলাফল
-
প্রার্থীর উচ্চতা
বাংলাদেশ পুলিশের নিয়োগবিধি অনুযায়ী এসব তথ্য যাচাই করে যোগ্য প্রার্থীদের তালিকা তৈরি করা হবে।
এরপর নির্বাচিত প্রার্থীদের ডাকা হবে Physical Endurance Test (PET) বা শারীরিক সক্ষমতা পরীক্ষার জন্য।
এই ধাপে যা যাচাই করা হবে
-
শারীরিক মাপ
-
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
-
শারীরিক সক্ষমতা
এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেই প্রার্থী পরবর্তী ধাপে অংশগ্রহণ করতে পারবেন।
৩য় ধাপ: লিখিত পরীক্ষা, মনস্তত্ত্ব ও কম্পিউটার দক্ষতা পরীক্ষা
শারীরিক সক্ষমতা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের তৃতীয় ধাপে লিখিত পরীক্ষা ও মনস্তত্ত্ব পরীক্ষা দিতে হবে।
এই পরীক্ষার জন্য আবারও অনলাইনে আবেদন করতে হবে।
আবেদন ফি
২২৩ টাকা
আবেদন করার ওয়েবসাইট
লিখিত পরীক্ষার নম্বর বণ্টন
লিখিত পরীক্ষায় মোট নম্বর থাকবে ২৫০।
১. বাংলা ও ইংরেজি রচনা এবং কম্পোজিশন
নম্বর: ১০০
সময়: ৩ ঘণ্টা
এই অংশে সাধারণত নিচের বিষয়গুলো থেকে প্রশ্ন আসে—
-
বাংলা রচনা
-
ইংরেজি কম্পোজিশন
-
অনুবাদ
-
ব্যাকরণ
২. সাধারণ জ্ঞান ও গণিত
নম্বর: ১০০
সময়: ৩ ঘণ্টা
এই অংশে সাধারণত যে বিষয়গুলো থাকে—
-
বাংলাদেশ বিষয়াবলি
-
আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি
-
সমসাময়িক ঘটনা
-
গণিত
৩. মনস্তত্ত্ব পরীক্ষা
নম্বর: ৫০
সময়: ১ ঘণ্টা
এই পরীক্ষার মাধ্যমে প্রার্থীর—
-
মানসিক সক্ষমতা
-
সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা
-
বিশ্লেষণ দক্ষতা
পরীক্ষা করা হয়।
মোট পরীক্ষার সময়
-
মোট নম্বর: ২৫০
-
মোট সময়: ৭ ঘণ্টা
পরীক্ষার সময়সূচি ও কেন্দ্র
লিখিত পরীক্ষার সময়সূচি ও পরীক্ষাকেন্দ্র সম্পর্কিত তথ্য পরে জানানো হবে।
এই তথ্যগুলো পাওয়া যাবে—
-
বাংলাদেশ পুলিশের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে
-
প্রার্থীর মোবাইল নম্বরে এসএমএসের মাধ্যমে
অফিসিয়াল ওয়েবসাইট:
http://www.police.gov.bd
৪র্থ ধাপ: বুদ্ধিমত্তা ও মৌখিক পরীক্ষা
লিখিত ও মনস্তত্ত্ব পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের চতুর্থ ধাপে বুদ্ধিমত্তা পরীক্ষা ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে।
এই ধাপের মোট নম্বর থাকবে—
৫০
এই পরীক্ষায় সাধারণত প্রার্থীর—
-
ব্যক্তিত্ব
-
যোগাযোগ দক্ষতা
-
উপস্থিত বুদ্ধি
-
নেতৃত্বগুণ
পরীক্ষা করা হয়।
প্রবেশপত্র সংগ্রহের নিয়ম
এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার আগে প্রার্থীকে প্রবেশপত্র সংগ্রহ করতে হবে।
প্রবেশপত্র সংগ্রহ করতে হবে—
প্রার্থীকে লগইন করতে হবে—
-
User ID
-
Password
ব্যবহার করে।
৫ম ধাপ: স্বাস্থ্য পরীক্ষা
লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের জন্য শেষ ধাপ হলো স্বাস্থ্য পরীক্ষা।
এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে—
কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতাল
রাজারবাগ, ঢাকা
এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার সময় প্রার্থীকে—
-
অনলাইনে পূরণ করা চিকিৎসা ইতিহাস ফরম
-
প্রয়োজনীয় মেডিকেল তথ্য
দাখিল করতে হবে।
স্বাস্থ্য পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই করা হবে—
-
শারীরিক সুস্থতা
-
চোখের দৃষ্টি
-
শ্রবণশক্তি
-
অন্যান্য স্বাস্থ্যগত বিষয়
চূড়ান্ত নির্বাচন প্রক্রিয়া
সব ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন করার পর সিলেকশন বোর্ড চূড়ান্তভাবে প্রার্থীদের নির্বাচন করবে।
এই নির্বাচনের জন্য আরও দুটি বিষয় যাচাই করা হবে—
১. স্বাস্থ্য পরীক্ষার ফলাফল
২. পুলিশ ভেরিফিকেশন
যদি প্রার্থী এই দুটি ধাপে সন্তোষজনকভাবে উত্তীর্ণ হন, তাহলে তাকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে।
সার্জেন্ট পদে প্রশিক্ষণ
চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের ১ বছর মেয়াদি মৌলিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হবে।
এই প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হবে—
বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি
সারদা, রাজশাহী
এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রার্থীদের পুলিশিং, আইন, তদন্ত এবং নেতৃত্বের বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
আবেদন করার সময়সীমা
বাংলাদেশ পুলিশ সার্জেন্ট পদে আবেদন করার সময়সীমা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
আবেদন শুরু
৮ মার্চ ২০২৬
আবেদন শেষ
২ এপ্রিল ২০২৬
প্রার্থীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে।
সার্জেন্ট পদে আবেদন করার আগে যা জানা জরুরি
আবেদন করার আগে প্রার্থীদের কয়েকটি বিষয় অবশ্যই মনে রাখতে হবে।
গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা
১. আবেদন অবশ্যই অনলাইনে করতে হবে।
২. ছবি ও স্বাক্ষর সঠিকভাবে আপলোড করতে হবে।
৩. সব তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করতে হবে।
৪. নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে।
৫. আবেদন ফি সময়মতো পরিশোধ করতে হবে।
ভুল তথ্য দিলে আবেদন বাতিল হতে পারে।
কেন সার্জেন্ট পদে চাকরি আকর্ষণীয়
বাংলাদেশ পুলিশের সার্জেন্ট পদ তরুণদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়।
এর প্রধান কারণগুলো হলো—
-
সম্মানজনক সরকারি চাকরি
-
ভালো বেতন ও সুযোগ-সুবিধা
-
ক্যারিয়ার উন্নয়নের সুযোগ
-
দেশের সেবায় কাজ করার সুযোগ
এই পদে কাজ করার মাধ্যমে একজন ব্যক্তি দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন।
বাংলাদেশ পুলিশ সার্জেন্ট পদে নিয়োগ একটি প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়া। তাই আবেদন করার আগে পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া ভালোভাবে জানা জরুরি।
যারা এই পদে আবেদন করতে চান, তাদের উচিত—
-
শারীরিকভাবে ফিট থাকা
-
লিখিত পরীক্ষার জন্য ভালোভাবে প্রস্তুতি নেওয়া
-
সাধারণ জ্ঞান ও গণিতে দক্ষ হওয়া
সঠিক প্রস্তুতি থাকলে এই পদে সফল হওয়া সম্ভব।
তাই আগ্রহী প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করে নিজেদের স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে যেতে পারেন।






















